দুর্নীতির অভিযোগের মুখে সমালোচিত যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও, সুষ্ঠু তদন্তে সহযোগিতা করতে মন্ত্রিত্বের মানদণ্ডবিষয়ক স্বাধীন উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন।
ম্যাগনাস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে একটি চিঠি লিখেন। সেখানে টিউলিপের আর্থিক লেনদেন ও ফ্ল্যাট মালিকানা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ম্যাগনাস তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, টিউলিপ মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন কিনা তা তিনি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি। তবে টিউলিপের বিরুদ্ধে অনৈতিক কোনো কার্যকলাপের সরাসরি প্রমাণও পাওয়া যায়নি। চূড়ান্ত রায় না দিয়েই ম্যাগনাস মন্তব্য করেন, কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। এ পরিস্থিতিতে টিউলিপ তার মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শেখ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ও বিতর্কিত ফ্ল্যাট মালিকানা
টিউলিপ সিদ্দিকের ফ্ল্যাট মালিকানার বিষয়টি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। চিঠিতে ম্যাগনাস উল্লেখ করেন, টিউলিপ ধারণা করেছিলেন যে তার মা-বাবা কিংস ক্রসের ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। কিন্তু ভূমি রেজিস্ট্রি হস্তান্তর ফর্মে তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি উঠে আসে। বিশেষ করে, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তার সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
টিউলিপ বারবার দাবি করেছেন, শেখ পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক রাজনৈতিক নয়, বরং কেবল পারিবারিক। একটি ছবিতে শেখ হাসিনা, পুতিন এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তুলে ধরা হয়। যদিও লরি ম্যাগনাস এ সম্পর্ককে তার সম্মান বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন, তবে এ সম্পর্ক এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন।
পদত্যাগপত্র ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
পদত্যাগপত্রে টিউলিপ সিদ্দিক ম্যাগনাসের নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, “মন্ত্রীদের মানদণ্ডবিষয়ক স্বাধীন উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসকে আমি ধন্যবাদ জানাই। তিনি আমার স্বপ্রণোদিত আবেদন দ্রুত ও নিখুঁতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং আমার আর্থিক ও বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আমি মন্ত্রিত্ববিধি ভঙ্গ করিনি এবং আমার কোনো সম্পদ অবৈধ উৎস থেকে আসেনি।”
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগপত্রের জবাবে বলেন, “আপনার পদত্যাগ গ্রহণ করতে গিয়ে আমি উল্লেখ করতে চাই যে, স্যার লরি ম্যাগনাস আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে মন্ত্রিত্বের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সত্য উদ্ঘাটনে আপনার পূর্ণ সহযোগিতা ও স্বাধীন উপদেষ্টার কাছে নিজেকে সমর্পণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।”
টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে তার পদক্ষেপকে দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এর পেছনে রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি তুলে ধরছেন।