আমরা কম–বেশি সবাই ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। ওজন কমল নাকি বেড়ে গেল, এই নিয়ে ভেবেই দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। এমনকি ওজন কমানোর জন্য অনেক লক্ষ্যও নির্ধারণ করে থাকি। অনেকে অবশ্য এ যুগের হাওয়ায় গা ভাসিয়ে ওজন কমানোর আশায় ছুটে বেড়ান ডায়েটের পেছনে। তবে ওজন সহজেই বাড়ানো গেলেও, কমিয়ে আনাটা কিছুটা কঠিন।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির নিউট্রিশন অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘ওজন কমানো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তাই অনেকেই অধৈর্য হয়ে পড়েন। দ্রুত নিজের মতো করে একটি ডায়েট রুটিনও করে নেন। ডায়েটের অর্থ নির্দিষ্ট খাবার বাছাই করা। যে খাবার নির্দিষ্ট সময় পর পর গ্রহণ করতে হয়।
প্রতিটি ডায়েটের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। ওজন কমানো বা বাড়ানো অথবা কোনো কোনো রোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডায়েটও মেনে চলতে হয়। দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকা বা প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়ার কারণে রোগী শারীরিকভাবে দুর্বলতা অনুভব করেন। তাই পুষ্টিবিদের পরামর্শে ডায়েটের নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।’
নিউট্রিশন অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা জানান, ডায়েট অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন: রোগীর বয়স, ওজন, উচ্চতা, পেশা, জেন্ডার, রোগজনিত অবস্থা, শারীরিক পরিশ্রমের পর্যায় ইত্যাদি। প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রেই ডায়েট ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আর এই ভিন্ন ভিন্ন চাহিদার ওপর নির্ভর করে খাদ্যের তিনটি মূল উপাদান কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট। এসব থেকে ক্যালরি বা শক্তি উৎপাদন হয়। তাই ওজন কমাতে সঠিক পদ্ধতিতে ডায়েটের নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন।
সুস্থ থাকুন, দুধ পান করুনসুস্থ থাকুন, দুধ পান করুন আসুন জেনে নিন, ওজন কমাতে কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন:
১. অনেকে ওজন কমাতে রাতের খাবার বাদ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ডায়েটের জন্য রাতে না খেয়ে থাকা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।
২. রাতে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পুষ্টির অভাব, হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটিসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৩. অনেকে আবার ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকেন। এটা ঠিক নয়। বরং সারাদিন একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অল্প অল্প করে খাবার খান।
বৃষ্টিতে ভিজেছেন? সুস্থ থাকতে যা করতেই হবেবৃষ্টিতে ভিজেছেন? সুস্থ থাকতে যা করতেই হবে
৪. অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ওজন কমবে—এমন ধারণা করবেন না। ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
৫. নিয়মিত হাঁটা ও শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। চেষ্টা করুন লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে, নামতে।
৬. ভাজাপোড়া, তেল, চর্বি ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। পছন্দের খাবার সামনে দেখেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
৭. ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার অনেক উপকারী। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি রাখুন।
ক্যানুলা ইনফেকশন কী? কতদিন পর ক্যানুলা পরিবর্তন করতে হয়?ক্যানুলা ইনফেকশন কী? কতদিন পর ক্যানুলা পরিবর্তন করতে হয়?
৮. প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী খান। এ ক্ষেত্রে চিনি, লবণ ও মসলা পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার চেষ্টা করুন।
৯. ওজন কমাতে মিষ্টি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।
১০. ওজনের প্রতি খেয়াল রেখে প্রতি দুই মাস পর পর ওজন মাপুন। এতে আপনার ওজন সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাবেন।